রবিবার, ২৮ Jun ২০২৬, ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ন
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০-দলীয় জোটের কার্যকারিতা নিয়ে নানা আলোচনার মধ্যে হঠাৎ জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান দলীয় নেতাদের জানালেন, জোট আর কার্যকর নেই। বিএনপি এই জোট কার্যকর করতে চায় না। বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের অকার্যকর জোট চলতে পারে না।
গত শনিবার দলের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে শফিকুর রহমান এ কথা বলেন।
প্রায় ছয় বছর ধরে জামায়াতের সঙ্গে দূরত্ব রেখে বিএনপি বিভিন্ন ইস্যুতে রাজনৈতিক কর্মসূচি নিয়েছে এবং তা পালন করছে। এরই মধ্যে সরকারবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো নিয়ে বৃহৎ ঐক্য গড়তে আলোচনা শুরু করেছে বিএনপি। এসব আলোচনায় রাজনৈতিক দলগুলো জোট অকার্যকর রেখে যুগপৎ আন্দোলন করতে রাজি হয়েছে।
ভার্চুয়াল সভায় শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা এত দিন একটা জোটের সঙ্গে ছিলাম। ২০০৬ সাল পর্যন্ত এটি একটি জোট ছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর জোট তার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছে। সেদিন বাংলাদেশ পথ হারিয়ে ছিল। সেটা আর ফিরে আসেনি। ’
২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট সরকারের শেষ দিন ছিল। ওই দিন তখনকার প্রধান বিরোধী দল আওয়ামী লীগের কঠোর আন্দোলনের সময় জামায়াতের সঙ্গে দলটির নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ বাধে। এতে বেশ কয়েকজন নিহত হয়।
জামায়াতের আমির আরো বলেন, ‘বছরের পর বছর ধরে এ ধরনের অকার্যকর জোট চলতে পারে না। এই জোটের সঙ্গে বিভিন্ন দল যারা আছে, বিশেষ করে প্রধান দলের (বিএনপি) এই জোটকে কার্যকর করার কোনো চিন্তা নেই। বিষয়টি আমাদের কাছে স্পষ্ট দিবালোকের মতো এবং তারা আমাদের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এখন বাস্তবতা হচ্ছে, নিজস্ব অবস্থান থেকে পথ চলা। তবে হ্যাঁ জাতীয় স্বার্থে একই দাবিতে যুগপৎ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করব। ’
শফিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা তাদের (বিএনপি) সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করেছি। এর সঙ্গে তারা ঐকমত্য পোষণ করেছে। তারা আর কোনো জোট করবে না। এখন যার যার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করব। ’
যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে জামায়াতের শীর্ষ নেতারা গ্রেপ্তার এবং তাঁদের রায় কার্যকর হওয়ার পর থেকে দলটির সঙ্গে বিএনপির দূরত্ব বাড়তে থাকে। জামায়াতের যুদ্ধাপরাধের দায় বিএনপি নিতে চায়নি বলেই জোটও কার্যকর রাখতে আগ্রহী ছিল না। জামায়াত ছাড়তে বিএনপির ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আছে। দলের একটি অংশও জামায়াত ছাড়ার পক্ষে।
জানা গেছে, কয়েক মাস আগে রাজধানীর উত্তরায় বিএনপি ও জামায়াতের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের কয়েকজন নেতার বৈঠক হয়। সেখানে বিএনপি আর জোট কার্যকর করতে চায় না বলে জানায়। তবে ভোটের রাজনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে—এমন বিবেচনায় এ ব্যাপারে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায়নি কোনো দল।